1. admin@prothomaloonlinenews.com : admin :
সোমবার, ১০ মে ২০২১, ০১:৪৯ অপরাহ্ন
বিজ্ঞপ্তিঃ
Welcome To Our Website...

গণ-মাধ্যম নাকি গণনিয়ন্ত্রণ মাধ্যম?

  • প্রকাশকাল: মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতেই মাফিয়ারা একের পর এক জন্ম দিয়েছে অসংখ্য সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল এবং এজাতীয় অন্যান্য বস্তু। বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যমই মূলত গণ-মাধ্যম নয়, বরং বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যম বা মুখপত্র হিসেবে সক্রিয় আছে তারা। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকৃত অবস্থা কতোটা শোচনীয়, তার কিছুটা ফিরিস্তি শুনাই।

এখানকার প্রধান এবং সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ ওরফে বসুন্ধরার মুখপত্র। তাদের পলিসি হলো, দেশব্যাপী বসুন্ধরার স্বার্থ রক্ষা করা, সেটা যেকোন মূল্যে হলেও। একই উদ্দেশ্যের প্রতিদিনের চেয়ে একটু বেশি দামী (অভিজাত) পত্রিকা কালের কন্ঠ, একই গ্রুপের দাস। যথাক্রমে দু্ই প্রধান দাস হলেন নঈম নিজাম ও ইমদাদুল হক মিলন। আরেক অভিজাত সংবাদপত্র, মতিউর রহমান সম্পাদিত প্রথম আলো, বস্তুনিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট সুনাম আছে যদিও। কিন্তু ট্রান্সকম গ্রুপের মুখপাত্র তথা দাস হিসেবে কাজ করছে। যারা বসুন্ধরার প্রতিপক্ষ। কয়েক বছর আগে, প্রথম আলোর সহযোগী কিশোর আলো এক অনুষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে এক ছাত্র মারা যাওয়ার পর প্রথম আলো যথারীতি নিরব ছিলো। একইসাথে গভীর ধ্যানে নিগগ্ন ছিলো ডেইলি স্টারও। বলতে দ্বিধা নেই, ট্রান্সকমের গোষ্টিস্বার্থ রক্ষাই ছিলো প্রথম আলোর ও ডেইলি স্টারের এজেন্ডা।


কালের কণ্ঠ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন ছাড়াও বসুন্ধরার দাসত্ব করছে আরো কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। আন্তর্জাতিক হিসেবে কাজ করছে ডেইলি সান, অনলাইল পোর্টাল হিসেবে সক্রিয় আছে বাংলানিউজ ২৪, নিউজ ২৪, এবং রেডিও জগতেও তারা দখল রেখেছে রেডিও ক্যাপিটাল এর মাধ্যমে। ট্রান্সকম গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের প্রধান মাধ্যম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার। এছাড়াও আছে এবিসি রেডিও। আরো আছে এস আলম গ্রুপের মিডিয়া একুশে টিভি, এশিয়ান গ্রুপের এশিয়ান টিভি, মোহাম্মদী গ্রুপের নাগরিক টিভি। উল্লেখ্য, মোহাম্মদী গ্রুপটি ঢাকার সাবেক মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকের। মোহাম্মদী গ্রুপের সাথে বসুন্ধরার সম্পর্ক ভালো না হওয়ায়, নাগরিক টিভি যথারীতি বসুন্ধরা প্রধানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী রিপোর্টও করে যাচ্ছে। দেশের আরেক প্রভাবশালী কোম্পানী বেক্সিমকোর আছে ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি। তারা কখনো বেক্সিমকোর বিরুদ্ধে কোনো রিপোর্ট করে নি। হা-মীম গ্রুপের চ্যানেল টুয়েন্টিফোর। যমুনা গ্রুপের যুগান্তর ও যমুনা টিভি, যা আবার বসুন্ধরার প্রধান প্রতিপক্ষ। যমুনার পণ্যের বিরেুদ্ধে প্রায়ই রিপোর্ট করে বাংলাদেশ প্রতিদিন, কালের কণ্ঠ, আবার বসুন্ধরার বিভিন্ন পণ্যের বিরুদ্ধে সরব যুগান্তর ও যমুনা টিভি।




এই হচ্ছে আমাদের তথাকথিত গণমাধ্যমের চেহারা। এইগুলি কেবলই শক্তিমানের মাধ্যম, বাহক, অস্ত্র। নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে, প্রসার করতে এবং গ্রাহক তথা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতেই তারা সংবাদমাধ্যমের নামে এইগুলির জন্ম দিয়েছে, দিচ্ছে, এবং দিয়ে যাবে। বাংলাদেশের অনলাইন, অফলাইন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক, কোনো মিডিয়াই স্বতন্ত্র নয়, স্বাধীন নয়, প্রত্যেকটিই বিভিন্ন শক্তিমান ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দাসত্ব করছে। তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এগুলি গণমাধ্যম নয়, গণনিয়ন্ত্রণ মাধ্যম।
.
আনসারি তৌফিক
ছাব্বিশে এপ্রিল, দুই হাজার একুশ,
কিশোরগঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

© All rights reserved
ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি