হিরো না ভিলেন বদরগঞ্জের ‘ইউএনও’! – জয় বাংলার জয়
  1. admin@prothomaloonlinenews.com : admin :
রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ০১:১০ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তিঃ

শিঘ্রই ম্প্রচারে আসছে রিয়ান টেলিভিশন। ২৪ ঘণ্টার পূর্ণাঙ্গ বাংলা টেলিভিশন "রিয়ান" টেলিভিশন। ‌'দেখিয়ে দাও বাংলাদেশ' স্লোগানকে সামনে রেখে সিঙ্গাপুর, লন্ডন, নিউইয়র্ক ও ঢাকা থেকে চারটি আলাদা বেজ-স্টেশনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে চ্যানেলটি ♦ ঈদ মানে আনন্দ, তবে আমার জন্য না! যেমন আমার ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে সে.....

ব্রেকিং নিউজ :
সম্পাদক পদে মনোনয়ন জমা দিলেন যুবলীগ চেয়ারম্যানের স্ত্রী এড.যূথী মনোনয়নপত্র বোর্ডেই জমা হয়নি, অভিযোগ অ্যাডভোকেট যুথির ঢাকা বারের নবনির্বাচিত কমিটিকে এড. নাহিদ সুলতানা যূথীর অভিনন্দন দেবীদ্বারে তানিশা ট্রাভেল এজেন্সি উদ্বোধন দেবীদ্বারে ভোটের আগের রাতেই নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর মৃত্যু সাংবাদিকদের ডাটাবেজ সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ প্রকৃত কারণ বের করা জরুরি, সাংবাদিক হাবীবের মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি হত্যা? : সাংবাদিক রায়হান উল্লাহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকের মৃত্যু, কুমিল্লায় শোকের মাতম কর্নেল ফারুক খান এমপিকে জসীম উদ্দিন চৌধুরীর শুভেচ্ছা হুইপ স্বপনের পিতার মৃত্যুতে ফারুক খান এমপির শোক

হিরো না ভিলেন বদরগঞ্জের ‘ইউএনও’!

  • প্রকাশকাল: মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

নাজনীন সুলতানা, বিশেষ প্রতিবেদক: রংপুরের বদরগঞ্জে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমি, গৃহহীন, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ১৪ হাজার টাকার বরাদ্দ দিয়েছিলো সরকার। বাড়িগুলো নির্মাণের পর উদ্বৃত্ত থাকা ২৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেন ইউএনও মেহেদী হাসান।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় ২০১৯-২০ অর্থ বছরে টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ) ও কাবিটা (গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার) কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থ দিয়ে ১২৪ ঘর নির্মাণ করে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ৫৮ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। সেসময় সংশ্লিষ্ট মেম্বার, চেয়ারম্যানদের না জানিয়ে তাদের নামে গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রায় কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এ ইউএনও’র বিরুদ্ধে। ঘরের তালিকা তৈরি ও গৃহনির্মাণ করে দেন রাজীবপুরের তৎকালীন এ ইউএনও মেহেদী হাসান।

তাই স্বভাবতই এখন প্রশ্ন উঠেছে রাজিবপুরে গৃহনির্মাণ বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রায় কোটি টাকার বাণিজ্য করে ভিলেন হওয়া ইউএনও মেহেদী হাসান সরকারি কোষাগারে ২৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে কিভাবে হিরো হয়ে গেলেন? সমালোচকরা বলছেন, আগের উপজেলার কয়েক কোটি টাকা থেকে মাত্র ২৫ লাখ টাকা সদকা দিয়ে তিনি তার গত বছরের পাপ ঢাকার চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী সাব্যস্ত হলে ইউএনওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম গৃহহীনদের জন্য দুর্যোগ সহনীয় গৃহনির্মাণ করে দেয়া। এরই ধারাবাহিকতায় রাজিবপুরে ১২৪টি গৃহনির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। বাড়ি নির্মাণ ও নির্মাণকাজ তদারকির জন্য ইউএনওকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। সদস্য ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তবে ইউপি চেয়ারম্যানদের দাবি তাদেরকে নামকাওয়াস্তে কমিটিতে রেখে ইউএনও কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন।

আরও পড়ুন :  রোজিনার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার চায় ১১ বিশিষ্ট নাগরিক

রাজিবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিটা (গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার) ও টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ) কর্মসূচির বিশেষ খাতের অর্থ দিয়ে গৃহহীনদের গৃহনির্মাণ করে দেয়ার জন্য ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫৫টি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬৯টি বরাদ্দ দেয়া হয়।

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় তিনটি ইউনিয়ন রয়েছে।চেয়ারম্যান-মেম্বাররা জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সবগুলো গৃহনির্মাণ বাস্তবায়ন দেখিয়ে গৃহহীনদের টাকা তিনি ভুয়া বিল-ভাউচারে তুলে নিয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৭ মে তাকে কুড়িগ্রামের রাজীবপুর থেকে অবমুক্ত করা হয়। এরপর তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। ৩০তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান সম্প্রতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেসময়ে ইউএনওর দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজীবপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। উপজেলা ভূমিহীন সংগঠনের উদ্যোগে ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে ইউএনওর নানা অনিয়ম, দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরেন বক্তারা।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করে বলেন, ইউএনও গৃহনির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছেন। যার কারণে এসব ঘর ভেঙ্গে পড়েছে। তাদের অভিযোগ রাজীবপুরের ইউএনও গৃহহীনের টাকা দিয়ে তার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁয়ে কোটি টাকা খরচ করে জমি কিনেছে।

সদর ইউনিয়নের মেম্বার ইসমাইল হোসেন, বাদশা মিয়া, আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করেন, আমাদের নামে গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়েছে অথচ আমরা কিছুই জানি না।

তারা অভিযোগ করে জানান, তাদের নামে থাকা ৬ লাখ থেকে শুরু করে ২০ লাখ টাকা লোক দিয়ে তুলে নিয়েছেন ইউএনও মেহেদী হাসান।

কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ছক্কু বলেন, নির্মাণ করে দেয়া ঘরগুলো মাস পেরোতেই ফাটল দেখা দেয়। ঘর নির্মাণে খুবই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদেরকে নামমাত্র কমিটিতে রাখা হয়েছে। আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ইউএনও টাকা তুলে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন :  অবশেষ বরিশালে সেই ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ

গৃহনির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে ইউএনও মেহেদী হাসান বলেন, এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে।

এ বিষয়ে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুব হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সর্ববৃহৎ মানবিক প্রকল্প হলো আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রত্যেকটি বাড়ির সঙ্গে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন জড়িত। মহামারি পরিস্থিতির মধ্যেও আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিদর্শনে করছি। দেশের অনেক জায়গায় অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে কিছু কিছু জায়গায় বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমরা সেসব জায়গায় পুনরায় বাড়ি নির্মাণ অথবা সংস্কার করে দিচ্ছি। প্রকল্পের অনিয়ম বা গাফিলতি নিয়ে আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স। কোনো এলাকায় দুর্নীতি কিংবা অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ক্যাটাগরীর আরও খবর




twitt feed

Linkedin profile



Copyright ©2021,joybanglarjoy.com, All Rights Reserved.

ডিজাইনঃ নাগরিক আইটি